1. admin@probahomanbangla24.com : admin :
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বরিশাল জেলা অনলাইন প্রাথমিক শিক্ষা পেইজে লাইভ ক্লাস এ পাঠদানকারী শিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠান। বগুড়া ১ আসনের সংসদ সদস্য করোনা পজিটিভ। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক। আজকের খুদে বিজ্ঞানীরাই একদিন বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষতার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করবে—আলী আজম মুকুল এমপি বরিশালে মুজিব শতবার্ষি উপলক্ষে মোবাইল সার্ভিসিং ইলেকট্রনিক এন্ড হাউস ওয়্যারিং ও সেলার সিস্টেম প্রশিক্ষণ এর উদ্বোধন। ভোলায় নব-নির্বাচিত আলীনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত। আইজিপি কর্তৃক বাস উপহার পেল কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ আগৈলঝাড়ায় ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ আগৈলঝাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন গৌরনদী উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রিভিউ

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৮ বার পঠিত

মজিবুর রহমান মন্জু।

#মুখোশের_বয়ান_চতুর্থ_পর্ব_ (পূর্ববর্তী অংশের ধারাবাহিকতায়…)

প্রথম দিনে লাঞ্চের পূর্ব পর্যন্ত আলোচনার ধারা ছিল গতানুগতিক।
সুরা নুরের ব্যাখ্যা এবং ছেলে মেয়ে কেউ খবর পড়তে পারবে কি পারবেনা তা নিয়ে চলেছে মজাদার বিতর্ক।
একজনের মত হল মেয়েরা খবর পড়তে পারে কোন বাধা নেই, তবে তাদের চেহারা দেখানো যাবেনা মুখ ঢেকে রাখতে হবে।
আরেকজন সাথে সাথে বললেন ছেলেদেরও তাইলে মুখ ঢেকে খবর পড়তে হবে। অথবা অনেকে আছে একই সঙ্গে ছেলে মেয়ের কণ্ঠে কথা বলতে পারে। একবার সে ছেলের কণ্ঠে খবর পড়বে আরেকবার মেয়েলী কণ্ঠে। মুখ যেহেতু ঢাকা থাকবে বুঝা যাবেনা আসলে সে ছেলে না মেয়ে।
হাস্যোচ্ছলে অন্যজন বললেন বাদ দাও তোমরা বরং কিছু ‘জীন’ সংগ্রহ করতে পারো কিনা দেখ খবর পড়ার জন্য। সবাই তাঁর কথায় আরেক পশলা হেসে ওঠে।
আমাদের নির্বাহী পরিচালক মরহুম একেএম হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক। তিনি মুখে হসি টেনে বিজ্ঞ আলেমদের উদ্দেশ্য করে বললেন আমরা আপনাদের মতামত জানতে এসেছি মেয়েদের ব্যাপারে, কিন্তু আপনারা এখন আমাদের ছেলেদের খবর পড়াও বন্ধ করার কথা বলছেন। আমাদের ছালা গেল; আমও গেল।

দুপুরের লাঞ্চের পর ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এই সেশনটা ছিল সম্পুর্ণ একাডেমিক।
এই পর্বের আলোচনার শুরুতে আমাদের তৎকালীন হেড অব প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক উপ-মহাপরিচালক(অনুষ্ঠান) খ্যাতিমান লেখক, নির্মাতা ও পরিচালক জনাব মাহবুবুল আলম গোরা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে লম্বা কিছু কথা রাখলেন।
তিনি বললেন- আমরা আসলে আপনাদের কাছে ফতওয়া জানতে আসিনি। পর্দার বিধান সম্পর্কে আপনারা যে সকল রেফারেন্স উল্লেখ করেছেন এসব কমবেশি আমরা সবাই জানি। আমরা মূলতঃ আপনাদের গাইড লাইন চাই। মূলধারার টেলিভিশন হিসেবে আমরা যে চলার চিন্তা করছি সেটার ব্যাপারে আপনাদের মতামত জানতে চাই।
আমরা এমন একটা সমাজে আছি- সেখানে সত্যপন্থী, মানবিকবোধে বিশ্বাসী মানুষগুলোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কোন ঠাই নেই। এই অঙ্গন যারা দখল করে আছে তাঁরা যা খাওয়াচ্ছে আমাদের তাই খেতে হচ্ছে। তাঁরা যেটা শিখাচ্ছে আমাদের তাই শিখতে হচ্ছে। এদের স্রোত এবং ধারা খুবই শক্তিশালী। তাদের সাথে আছে সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি সীমানা পেরিয়েও আছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা। আমরা সেখানে প্রথমবারের মত পরিবর্তনের আওয়াজ তুলতে চাই। সেই আওয়াজ তোলার জন্য আমাদের দুটি পথ খোলা- ১) পরিপূর্ণ ইসলামের রুপ নিয়ে হাজির হওয়া। ২) চলমান ধারার মধ্যে থেকে ধীরে ধীরে শুদ্ধতার জন্য কাজ করা এবং পরিবর্তনের সূচনা করা।
ওরা যেসূরে গান করে হয়তো প্রথম প্রথম আমরাও সে সূরে গাইবো কিন্তু আমাদের প্রেজেন্টেশন হবে ভিন্ন। ওরা যে নাটক করছে একই শিল্পী দিয়ে, পরিচালক দিয়ে আমরাও কাজ করবো কিন্তু সেটার বক্তব্য হবে গঠনমূলক জীবনমুখী। তিনি আরও বললেন, সিনেমা বা নাটকে আমরা যখন এক দৃশ্য থেকে অন্য দৃশ্যে যাই তখন দুটো পথ আমরা বেছে নিই একটি হচ্ছে কাটওয়ে এবং অন্যটি হল ডিজল্ভ-ওয়ে। ডিজল্ভওয়েতে একটি দৃশ্য ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় আরেকটি দৃশ্য দীপ্তমান হয়, দর্শকের চোখে সেটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়না। কাটওয়ে হল একটা থামিয়ে বা কেটে আরেকটাতে চলে যাওয়া, দর্শকের চোখে এটা ধাক্কা লাগে। আমরা আসলে দিগন্ত কে নিয়ে ডিজল্ভওয়েতে কাজ করতে চাই।
সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনলেন।
এরপর তিনি আরও একটু যোগ করে বললেন, ইসলাম একজন মানুষের জীবনের চূড়ান্ত ‘মুলনীতি’ সেটা পরিস্কার। কিন্তু এখানে আমরা আমাদের এই পদক্ষেপ কে ‘নীতি’ হিসেবে নয় নীতি বাস্তবায়নের ‘কৌশল’ হিসেবে নিতে চাইছি। ইসলামের আলকে আমাদের এই ‘কৌশলনীতি’ গ্রহণযোগ্য কিনা সেটাই আপনারা আপনাদের গভীর জ্ঞান এবং বিশ্লেষণ থেকে আমরা জানতে চাইছি।
গোরা ভাইয়ের বক্তব্যে সবাই নড়ে চড়ে বসে। অনেকক্ষণ কেউ কথা বলেনা।
আমি নিজেও ভাবতে থাকি, অনেক জটিল এবং কঠিন আলোচনার দিকে যাচ্ছি কী আমরা!
নীরবতা চলতে থাকে অনেকক্ষণ।
বলে রাখা ভালো ওলামাদের নিয়ে সভাটি হচ্ছিল, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড রুমে।
নীরবতা ভাঙ্গেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি বললেন, আপনাদের খোলামেলা কথা শুনে খুশী হলাম। আপনারা আমাদের কাছ থেকে কী চান স্পষ্ট করে বলায় আমাদের সুবিধা হল। আসলে ইসলামী শিক্ষানীতি বলেন আর অর্থনীতি বলেন বা মিডিয়া নীতি বলেন তা স্থির করা এবং প্রতিষ্ঠা করা ইসলামী রাষ্ট্রের কাজ। কোন ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিগোষ্ঠীর পক্ষে তা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবুও আমরা যার যার ক্ষেত্রে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে শরিয়া ইস্যুতে কমপ্রোমাইজ আমাদের করতেই হচ্ছে। সরকারী বিষয়াদি, আমলাতান্ত্রিক অনিয়ম, দুর্নীতি এগুলোকে মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। আমরা যেহেতু পরিপূর্ণ ভাবে ইসলাম মেনে চলতে পারছিনা তাই সব বাদ দিয়ে নিজে হকের উপর বসে থাকবো কোন পরিবর্তনের কাজ করবনা এটা ইসলাম সম্মত কথা নয়। আপনারা যে এই জন্য ভেবেছেন তাতেই আপনারা ইতিমধ্যে বড় একটি সওয়াবের কাজ করেছেন বলে মনেকরি।
কিন্তু সমস্যা হল এই বাংলাদেশে কোন পরিবর্তনের কাজ করা খুবই জটিল, কঠিন এবং অসম্ভব! এখানে আপনি ইসলামের নামে কোন কাজ করতে যাবেন, সাথে সাথে সেখানে প্রশ্ন আসবে এটা ইসলামে জায়েজ কিনা, এটা কোরআন-হাদিস সম্মত কিনা, ইসলামের নীতি এখানে মানা হয়েছে কিনা, দাঁড়ি লম্বা না বেঁটে! ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর আপনি যদি ইসলাম নাম বাদ দিয়ে বা অন্য নামে কিছু কাজ করেন তাহলে বলবে ওই দেখ মাউলানা কী করে? এসব কাজ করার কী লোকের অভাব? উনার কেন এসব করতে হবে? আপনি সরকারের মাইরও খাবেন, নিজের লোকদের মাইরও খাবেন।

মুরুব্বীর কথার সুত্র ধরে আলোচনা গড়ায় একটি অনৈসলামিক সমাজ থেকে ইসলামিক সমাজে রুপান্তরের ধারা বা পরিবর্তনের বিভিন্ন ইতিহাসের দিকে। উঠে আসে রাসুল (সঃ) এর জীবনের অসাধারণ কিছু তথ্য এবং বিশ্লেষণ, সাহাবীদের জীবনের অনেক মূল্যবান রেফারেন্স। দেশে দেশে যারা মুজাদ্দিদ ছিলেন তাঁরা কীভাবে নিজ লোকদের দ্বারাই অবহেলিত, অবমুল্লায়িত, নির্যাতিত হয়েছেন তাঁর কিছু ঘটনা। এমন কিছু ঘটনাও উঠে আসে যাতে পরিবর্তন কামীদের বিদ্রোহী, পথভ্রষ্ট, বাতিল বলে একঘরে করে হত্যা করা হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে কেউ কেউ বলেন- যেখানে ছবি তোলা নিয়ে বিতর্ক, মাইকে আজান দেয়া, কুরআন তেলাওয়াৎ, টেলিভিশন দেখা এবং সেখানে ইসলামী আলোচনা করা ইত্যাদি নিয়ে আপত্তি সেখানে আপনারা চলমান ধারার গান বাজনা নাটক করে চিন্তা জগতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন কীভাবে?

যাইহোক প্রথমদিন শেষে আমরা বুঝতে পারি আমরা যা করার চিন্তা করছি তা খুবই কঠিন এবং সমস্যা বহুল কাজ।
আমাকে হাতাশা আচ্ছন্ন করে।
মন বারবার বলছে, এটা আমার কাজ নয়।
পরদিন আমি হাজির হই সিপাহসালারের কাছে।
এবার আমি খুব স্পষ্ট এবং স্থির।

আমি পারবোনা, এটা একটা ফেতনার কাজ হবে।
দরজা খুলে তাঁর রুমে ঢুকলাম খুব উদ্ধতের সাথে…… (অসমাপ্ত… চলবে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© probahomanbangla.com © 2020
কারিগরি সহযোগিতায়: মোস্তাকিম জনি